তিস্তা নদী ও ভূ-রাজনীতি । প্রকৌ স ম আলী আকবর 

তিস্তা নদী ও ভূ-রাজনীতি । প্রকৌ স ম আলী আকবর 

কথিত ‎তিস্তা মহাপরিকল্পনা কাকে দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে, চীন নাকি ভারত? তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি কপাট নির্গত পানিটুকু প্রবাহের জন্য মাত্র ৭০০ মিটার চওড়া, ১১৫ কিমি দীর্ঘ এবং ১০-১৫ মিটার গভীর সাধারণ প্রযুক্তি নির্ভর একটি বড় ড্রেনেজ সিস্টেমে, দুটি ব্যারেজ নতুন সংযোজনে দেশীয় প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞগণ কি আসলেই ব্যর্থ? সদ্য গণতন্ত্রের পথে হাঁটা একটি উদীয়মান দেশকে প্রতিবেশী দুই আগ্রাসী দেশের কোপানলে ফেলে, হাজার হাজার কোটি টাকার চলমান ভূরাজনৈতিক চক্রান্ত রুখে দেওয়ার কোনো দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী কি আমাদের নেই?

‎অথচ বছরের ৭ মাস শুকনো পড়ে থাকা বালুচরে, সেই ‘তিস্তা খালটি!’ প্রায় প্রচলিত বাজেটেই নিয়ন্ত্রণে এনে, ‘তিস্তা পাড়ের অনন্ত কান্না’ চিরতরে মুছে দেওয়ার জন্য শুধুই প্রয়োজন—

  • দেশপ্রেমিক বিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সমষ্টিগত, আন্তরিকতাপূর্ণ, বাস্তবধর্মী ও সাহসী একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ!
  • স্থায়ী গ্রোয়েন হেডকে সর্বাগ্রে বিবেচনাসহ, Latest Model অনুসরণে দেশীয় প্রযুক্তি বা সংযুক্ত গ্রোয়েনহেড ধারণায় Sustainable ও সহজসাধ্য গ্রোয়েন বাছাইकरण।
  • ‎নদীটির ভৌত অবস্থার আলোকে নিয়ন্ত্রণের সুনির্দিষ্ট Line of Action নির্ধারণ।
  • ‎নদীটির ঋতুভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় Mode of Action নির্ধারণ।
  • ‎সমগ্র গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো গ্রথিত করে, প্রকল্পের নিখুঁত Schedule-এ জাপানি নীতির কঠোর অনুসরণ!

    ‎ছোট্ট তিস্তার পথ ধরে, একইভাবে যমুনা সেতু ও পদ্মা সেতুর বাস্তবতার আলোকে দেশীয় প্রযুক্তি আর সহনীয় ব্যয়েই যমুনা, পদ্মা এবং মেঘনাকেও যথাক্রমে ৫, ৬ ও ১০ কিমি প্রস্থে নিয়ন্ত্রণ যে সহজ বাস্তবতা—তা আমরা ক’জনে ভাবি?

    ‎বুয়েটের পুরকৌশল, পানিকৌশল বিভাগ এবং সকল সচেতন প্রকৌশলী বৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক, প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রীবর্গসহ সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ মহল বরাবরে, ভয়াল যমুনার দুর্গম চরে জন্ম নেওয়া, ষাটোর্ধ্ব এক আজন্ম ভুক্তভোগী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের “জাগো বাহে!” আহ্বান—
  • সাবধান! উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের নামে কোনো ভূরাজনীতির ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না!
  • ‎প্রস্তাবিত পন্থায় অন্তত তিস্তা প্রকল্পটির সহজ বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় সক্ষমতায় দ্রুত নিশ্চিত করতেই হবে!
  • ‎একইভাবে যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা নিয়ন্ত্রণেও স্থায়ী, পরিবেশবান্ধব এবং সহজতর সেই সাহসী পদক্ষেপটি নিতে হবে!

    ‎“দেশের সর্ববৃহৎ সমস্যাটির সহজ সমাধানে সঠিক কাজটিই সজ্ঞানে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে!” কেন? এখানেই মূলত চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে, যদি—
  • ‎তারুণ্যদ্বীপ্ত প্রধানমন্ত্রী, শহীদ জিয়ার ভাষায় কথিত ‘খেসারির ডাল’ খোর আমলা ও বিশেষজ্ঞগণকে পাশ কাটিয়ে, দেশপ্রেমিক প্রযুক্তিবিদ আর বিশেষজ্ঞবর্গকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন!
  • ‎প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পর্যবেক্ষণে বুয়েট (CED & WRE Dept), আর্মির DW এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগ বা আরও উত্তম কোনো পন্থায় সম্পন্নের কঠোর নির্দেশ দেন! এবং—
  • ‎সংযুক্ত ম্যাপে উল্লেখিত Line বরাবরে, স্থায়ী গ্রোয়েন হেড, গ্রোয়েন স্টেম এবং গাইড বাঁধ proper Scheduling-এর মাধ্যমে সম্পন্নের সদয় অনুমোদন দিয়ে ফেলেন—

    ‎তাহলে, স্রষ্টার কৃপায় (ঐ ৩টি নির্দেশনা সাপেক্ষে!) অতি নগণ্য ০.২৫% বার্ষিক বাজেটেই নয়া সরকারের ভূমিধস অর্জনগুলো হতে পারে—

১. ‎ভূরাজনৈতিক ফেৎনা হতে নিষ্কৃতিসহ বন্যা ও নদীভাঙন নামক দুই দানবের গ্রাস হতে চিরমুক্তির স্থায়ী সূচনা!

২. ‎মানচিত্রে শতসহস্র বর্গমাইল আবাদি জমির নবতর সংযোজন!

৩. ‎জল ও স্থল যোগাযোগে বিপ্লবসহ দেশের কৃষিতেও বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধন!

৪. ‎এক তিস্তার দুই পাড়ের উদ্ধারকৃত কৃষিজমি ছাড়াও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রায় ২০০ কিমি দীর্ঘ বিশাল নিচু এলাকা অতিরিক্ত অর্জন!

৫. ‎নিয়ন্ত্রিত তিস্তায় আরো দুটি ব্যারেজসহ পদ্মায় ব্যারেজ স্থাপন, ভবিষ্যতে খালখনন বিপ্লবে পানির নিশ্চয়তা এবং মৎস্য উন্নয়নের ক্ষেত্র প্রস্তুতকরণ!

‎মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমাজের নিম্নস্তরের ৫/৭ কোটি ভুখা-নাঙ্গা-ভিক্ষুক নির্মূলসহ দেশটির নিচতলা মেরামতে মূল বাজেটের প্রায় ৫% উৎসর্গের সাহসী সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলেছেন! সেক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত দেশীয় প্রযুক্তিতে, মাত্র ০.২৫% খরচায়, সফল নদী নিয়ন্ত্রণ ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাটা সাহসী নেতার হাতকে অবশ্যই আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করবে, ইনশাআল্লাহ!