অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ সম্মানে ভূষিত হলেন গামা আব্দুল কাদির

অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ সম্মানে ভূষিত হলেন গামা আব্দুল কাদির

সিডনি তথা অস্ট্রেলিয়ার বাঙালি কমিউনিটির সর্বজনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব গামা আব্দুল কাদির পেয়েছেন ‘কিংসফোর্ড স্মিথ কমিউনিটি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’। গত ২০ নভেম্বর বৃহস্পতিবারে সিডনির বোটানি হলে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন নিরলস সেবার স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ এই সম্মাননা তুলে দেন অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ও পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী ম্যাট থিস্টলওয়েট এমপি। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. সিরাজুল হক।

একই সপ্তাহে গত ১৬ নভেম্বর রবিবার সিডনির পড়ুয়া আসর গামা আব্দুল কাদিরকে ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মরণ অনুষ্ঠান–প্রিয় পদরেখা’ অনুষ্ঠানে অন্যান্য তিন গুণীজনের সাথে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে। সম্মাননা গ্রহণ শেষে আবেগে আপ্লুত গামা আব্দুল কাদির প্রশান্তিকাকে তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমি ১৯৭৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আসি। তখন খুঁজে খুঁজে বাঙালি বের করতাম। ছোট ছোট সংগঠন কিংবা বাঙালিরা একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করতাম। দীর্ঘ ৪৬ বছরের পথপরিক্রমায় পেছনের দিকে তাকালে সেই প্রথম দিককার কথা মনে পড়ে। আজ প্রায় এক লক্ষ বাঙালির বাস এই দেশে। তবুও মনে হয়, বাঙালি মাত্রই একটি বৃহৎ পরিবার। আমরা একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়িয়ে আছি সর্বক্ষণ।”

গামা কাদির বহুজাতিক এই দেশে বাঙালি কমিউনিটির অগ্রগণ্য। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী গামা কাদির বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জড়িত আছেন। তিনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার পাঁচবার সভাপতি এবং তিনবার সাধারণ সম্পাদকের পদ অলংকৃত করেছেন। এছাড়া তিনি বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। এখনো তিনি বহু অনুষ্ঠানে শারীরিকভাবে উপস্থিত থেকে অনুপ্রেরণা যোগান। তিনি বাংলাদেশের বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার একজন এলামনাই।

স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে গামা কাদির যোগদান করেছিলেন রেড ক্রিসেন্টে। কর্মসূত্রে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের সে সময়ের একজন রেজিস্টার্ড নার্সকে। অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর স্ত্রী রেজিস্টার্ড নার্স হিসেবে দীর্ঘদিন সেবাপ্রদান শেষে অবসর গ্রহণ করার পরে এখন অসুস্থ। তিনি অসুস্থ স্ত্রীর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ রেখেছেন।

সিডনিবাসী ছড়াকার ও কলামিস্ট অজয় দাশগুপ্ত বলেন, “গামা ভাই যে পরোপকারী—এই তথ্য আমার চেয়ে আর ক’জন জানে, জানি না। দেশ থেকে যখন কোনো তরুণ–তরুণী বিপদাপন্ন হয় কিংবা অসুবিধায় পড়েন, গামা ভাইকে জানালে তিনি একটা বিহিত করেনই। তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাস করলেও পরিপূর্ণ এক বাঙালি এবং প্রগতিশীল আলোকিত এক মানুষ।”

আইনজীবী ড. সিরাজুল হক বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং নানা ধরনের সমস্যার সমাধান ও শিকড়ের অস্তিত্বকে জলাঞ্জলি না দিয়ে এদেশের মানুষ ও সমাজব্যবস্থা এবং সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধন গড়ে তোলার জন্য কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে গঠন করেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া। গামা ভাই শুরু থেকেই এই সংগঠনসহ বহু সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে বাঙালি কমিউনিটির একটি নেতৃত্বে সংগ্রাম করে আসছেন। গামা ভাইয়ের এই সম্মাননা প্রাপ্তিতে আমি খুব আনন্দিত।”

সংগঠক ও রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ সফিকুল আলম বলেন, “জনাব গামা কাদির ৮০ বছরোর্ধ্ব ব্যক্তি—একটি দিনের জন্যও তাঁর সামাজিক কার্যক্রমে বিরতি দেননি। ৪৬ বছরের প্রবাস জীবনে ৪০ বছর কাটিয়েছেন ইস্টার্ন সাবার্বে। সামাজিক কার্যক্রমে নিবেদিত প্রাণ এই ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়ায় আমি খুব গর্বিত এবং আনন্দিত।”

প্রশান্তিকা সম্পাদক আতিকুর রহমান শুভ বলেন, “আমার বাবা বেঁচে থাকলে গামা ভাইয়ের বয়সী হতেন। তিনি ছোট–বড় সবার সাথে একাত্ম হয়ে মিশতে পারেন—এটাই গামা ভাইয়ের বড় গুণ। সিডনিতে প্রাশান্তিকার উদ্যোগে যে কয়েকটি অনুষ্ঠান হয়েছে, সবক’টিতে গামা ভাই সভাপতিত্ব করেছেন। তিনি অভিভাবকের মতো আরও অসংখ্য সংগঠনের সাথে জড়িয়ে রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল একজন মন্ত্রীর হাত থেকে তাঁর এই সম্মাননা প্রাপ্তি আমাদের জন্য খুব বড় একটি সংবাদ। প্রাশান্তিকার সকল পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে আমরা গামা আব্দুল কাদিরকে অভিনন্দন জানাই।”