অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আসছে বাংলাদেশের ‘রইদ’

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আসছে বাংলাদেশের ‘রইদ’

মেলবোর্নভিত্তিক স্ক্রিনএক্সকোপ এবং সিডনিভিত্তিক দেশিইভেন্টস যৌথভাবে বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রইদ’-এর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড পরিবেশনার স্বত্ব অধিগ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটির আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পরিবেশনা কার্যক্রমে নতুন একটি সংযোজন হলো।

চলচ্চিত্রটি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ প্রদর্শিত হয়েছে। এটিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা উৎসবটির মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়। এছাড়াও চলচ্চিত্রটি সিয়াটল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও নির্বাচিত হয়েছে।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’ তার দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার ‘হাওয়া’ বাংলাদেশের অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিস চার্টে স্থান পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে আলোচনায় আসে। চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এবং আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ।

বঙ্গ-এর প্রযোজনায় এবং ফেইসকার্ড প্রোডাকশনের সহযোগিতায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রের নির্বাহী প্রযোজক অপূর্ব বক্সী, ‘Awedacious Originals’ থেকে। প্রাক-ডিজিটাল যুগের গ্রামীণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘রইদ’ সামাজিক স্তরবিন্যাস, লোকজ বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের ভেতর দিয়ে মানুষের আকাঙ্ক্ষা, মায়া, নিয়তি ও প্রবৃত্তির গল্প তুলে ধরে।

চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সাধু, এক দরিদ্র বর্গাচাষী, যে তার মানসিকভাবে অস্থির স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করে। স্ত্রীকে বারবার দূর-দূরান্তে ফেলে রেখে আসার পরও তিনি রহস্যজনকভাবে ফিরে আসেন। বাস্তবধর্মী এই গ্রামীণ গল্পের ভেতর দিয়ে পরিচালক নির্মাণ করেছেন গভীর প্রতীকী ও মানবিক এক আখ্যান। লোকজ উপাদান, আধ্যাত্মিকতা এবং চক্রাকার গল্প বলার ভঙ্গি চলচ্চিত্রটিকে দিয়েছে একটি স্বতন্ত্র সিনেমাটিক ভাষা।

স্ক্রিনএক্সকোপ এর আগে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘Tiger Stripes’ এবং ‘Pooja, Sir’ পরিবেশনা করেছে। চলচ্চিত্র পরিবেশনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বাংলা চলচ্চিত্র প্রযোজনাতেও সক্রিয়। তাদের প্রযোজিত ও সহ-প্রযোজিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘King in the Land of the Princess’ (Moscow International Film Festival 2026), ‘A Thing About Kashem’ (Rhode Island International Film Festival 2025) এবং লীসা গাজীর ‘Punishment’, যেখানে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, পরীমনি, অর্ক দাশ ও আননসহ আরও অনেকে। চলচ্চিত্রটি আগামী বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনায় রয়েছে।

দেশিইভেন্টস ও স্ক্রিনএক্সকোপের সৃজনশীল নেতৃত্ব এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ‘হাওয়া’, ‘ডুব’, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’, ‘দামাল’, ‘আয়নাবাজি’, ‘নোনা জলের কাব্য’, ‘বাড়ির নাম শাহানা’, ‘চোরাবালি’ এবং ‘জয়া আর শারমিন’-সহ একাধিক প্রশংসিত বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের সফল পরিবেশনা ও মুক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

দেশিইভেন্টস অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম অগ্রণী বাংলাদেশি কমিউনিটিভিত্তিক অনলাইন টিকিটিং, চলচ্চিত্র পরিবেশনা ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে অর্ণব, ওয়ারফেজ ও রুনা লায়লার মতো খ্যাতিমান শিল্পীদের বড় মাপের লাইভ কনসার্ট আয়োজনেও যুক্ত ছিল।

‘রইদ’ আগামী ৫ জুন ২০২৬ অস্ট্রেলিয়ায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে www.deshievents.com.au এবং www.screenxcope.com/roid ওয়েবসাইটে।

স্ক্রিনএক্সকোপের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সাকিব ইফতেখার বলেন, “‘রইদ’ এমন একটি চলচ্চিত্র, যা ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সীমা অতিক্রম করে গভীর মানবিক অভিজ্ঞতার জায়গায় পৌঁছায়। চলচ্চিত্রটির মধ্যে এমন এক অন্তর্নিহিত মানবিক ও প্রবৃত্তিগত শক্তি রয়েছে, যা দীর্ঘ সময় দর্শকের মনে থেকে যায়। আমাদের পরিবেশনা দর্শনের সঙ্গে এটি গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

দেশিইভেন্টস-এর সিইও সাইয়েদ ফয়েজ বলেন, “‘রইদ’ শিল্পমান ও দর্শক-সংযোগ—দুই দিক থেকেই শক্তিশালী একটি চলচ্চিত্র। আমরা খুবই আনন্দিত যে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দর্শকদের জন্য এটি বড় পর্দায় নিয়ে আসতে পারছি।”