হুমায়ূন ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত পড়ুয়ার আসরের প্রিয় পদরেখা

হুমায়ূন ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত পড়ুয়ার আসরের প্রিয় পদরেখা

নীল শাড়িতে রূপা, হলুদ পাঞ্জাবিতে হিমু, ভারী পাওয়ারের চশমায় শুভ্র, বাকের ভাই- মুনা, লজিক-এন্টিলজিকের মিসির আলী—আরো কত হুমায়ূনী চরিত্রের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিলো প্রিয় পদরেখা’র জাঁকজমক অনুষ্ঠানটি। পড়ুয়ার আসর আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাঠকের পাঠে, শিল্পীর গানে দর্শক-শ্রোতারা হেসেছে, কেঁদেছে, আনন্দিত এবং আপ্লুত হয়েছে। গত ১৬ নভেম্বর রবিবার সিডনির ম্যাকুয়ারি লিংকস গল্ফ ক্লাবের জনাকীর্ণ হলে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্রিয় পদরেখা’। সিডনির প্রশান্তিকা বইঘর কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বাজারে প্রাপ্ত প্রায় দুইশত বইয়ের পসরা নিয়ে বসেছিলো।

সকাল ১১টায় নিয়ন আহমেদের কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী এবং ভূমিপুত্রদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

পড়ুয়ার আসরের সদস্য রোকেয়া আহমেদ, নাসরিন মোফাজ্জল, কাশফী আসমা আলম, লায়লা লজি, রওশন পারভিন, শামীমা আলমগীর, আজিজা শাদাত এবং শাদাত হোসেন, রিনা আক্তার, নুরুন্নাহার বেগম, মেহেদী হাসান—হুমায়ূন আহমেদের রচনা থেকে পাঠ করেন। এসময় তারা আগুনের পরশমণি, হিজিবিজি, জোছনা ও জননীর গল্প এবং অন্যান্য গ্রন্থ থেকে পাঠ করেন। পাঠপর্বের শেষদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাদাত হোসেন পড়ছিলেন জোছনা ও জননীর গল্প-এর শেষাংশ। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নাইমুলের মাটি হয়েছে বাংলার কোন এক প্রান্তে—এরকম মর্মস্পর্শী ঘটনাপ্রবাহ পড়তে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁর পাঠের সাথে দর্শকেরাও চোখ মোছেন।

কাশফী আসমা আলম ও মেহেদী হাসান মুনা ও বাকের চরিত্রে রূপদান করে কোথাও কেউ নেই নাটকের কিছু সংলাপ দর্শকদের উপহার দেন। নীল শাড়িতে জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুপন্তী ও হলুদ পাঞ্জাবিতে মাজনুন মিজান—রূপা ও হিমুর চরিত্রে দর্শকদের মোহিত করেন।

আশীষ বাবলুর প্রচ্ছদে রোকেয়া আহমেদ সম্পাদিত ‘প্রিয় পদরেখা’ নামে চমৎকার একটি সাময়িকীর মোড়ক উন্মোচন করেন হুমায়ূন আহমেদের সহপাঠিনী নাসরিন গণি। এসময়ে ম্যাগাজিনটির স্পনসরদের মধ্যে থেকে শফিকুল আলম ও সাজ্জাদ সিদ্দিকী বক্তব্য রাখেন। হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে লিখেছেন অজয় দাশগুপ্ত, ড. আলী কাজী, শাফিন রাশেদ, আশীষ বাবলু, কাজী সুলতানা শিমি, আতিকুর রহমান শুভ, জন মার্টিন, শাখাওয়াত নয়ন, মাহমুদা রুনু, সিরাজুস সালেকীন, কাশফী আসমা আলম প্রমুখ।

ড. শাখাওয়াত নয়নের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় হুমায়ূন আহমেদের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা। আলোচনায় অংশ নেন অজয় দাশগুপ্ত, শাফিন রাশেদ, ড. আলী কাজী, নাসরিন গনি এবং অভিনেতা মাজনুন মিজান।

পড়ুয়ার আসরের পক্ষ থেকে এবছরই প্রথম দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা। কমিউনিটিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চার গুণী ব্যক্তিকে মনোরম ক্রেস্ট  প্রদানের মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন—সংগীতে অবদানের জন্য সিরাজুস সালেকিন, সিডনির প্রথম বাংলা স্কুলে পাঠদানের জন্য সালেহা নবী, কমিউনিটিতে অবদানের জন্য গামা আব্দুল কাদির, বাংলা প্রসার ও বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য ড. রফিকুল ইসলাম। তিনি অসুস্থ থাকায় তাঁর পক্ষ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী মিলি ইসলাম।

সাংস্কৃতিক পর্বে রোকেয়া আহমেদের আবৃত্তি এবং এহসান আহমেদের গান নিয়ে যুগল পরিবেশনাটি দর্শক নন্দিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন এহসান আহমেদ, সাজ্জাদুল চৌধুরী বাপ্পী, ফারিয়া নাজিম, নাজ আহমেদ, নীলুফা ইয়াসমিন, নাবিলা স্রোতস্বিনী, সামিহা রাশেদ, তীর্থ কর। তবলায় সংগত করেন সাকিনা আক্তার ও বিজয় সাহা, মন্দিরায় শাজাহান বৈতালিক।

কবিতা আবৃত্তি করেন পলি ফরহাদ। নৃত্য পরিবেশন করেন অবনী খান। অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়াবাসী লেখক, সাংবাদিক, সম্পাদক, শিল্পী, কাউন্সিলর, পাঠকসহ অনেক দর্শক শ্রোতা ও  সুধীজনের মিলনমেলায় পরিণত হয়। নাসরিন মোফাজ্জলের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।