অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্ট হাউসে বাংলাদেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্ট হাউসে বাংলাদেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের পার্লামেন্ট হাউসের জুবিলি কনফারেন্স হলে সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। Federation of Bangladesh Associations Australia (FBAA)–এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল—

“A Seminar on Current Constitutional Governance Crisis in Bangladesh: A Legal Post Mortem.”

Keynote Speaker ছিলেন ড. রফিকুল ইসলাম, সিডনির খ্যাতনামা ম্যাকুয়ারি ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের এমিরিটাস প্রফেসর ও সাবেক ডিন।

সিডনিতে গতকাল দুপুরে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে আইন, শিক্ষা, রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় যুক্ত প্রবাসী বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের সরব অংশগ্রহণে পার্লামেন্ট হাউসের কনফারেন্স হলটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত আলোচনার কেন্দ্রে।

সেমিনারের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিরাজুল হক। সূচনা বক্তব্যে তিনি সেমিনারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং মূল আলোচনার জন্য বক্তাদের আমন্ত্রণ জানান।

সেমিনারের Keynote Speaker ছিলেন ড. রফিকুল ইসলাম, সিডনির খ্যাতনামা ম্যাকুয়ারি ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের এমিরিটাস প্রফেসর ও সাবেক ডিন। তিনি তাঁর দীর্ঘ ও বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে গভীর আলোকপাত করেন। তিনি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের নির্বাচনকে ঘিরে গণভোট সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক বলে আখ‍্যা দেন।   

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর কাজী মোহাম্মদ আলী, যিনি এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় চার দশকের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন স্বনামধন্য একাডেমিক। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সুসংগঠিত মতামত উপস্থাপন করেন। বক্তব্য দেন মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ড. মোল্লা হক। তিনি মোনাশ ইউনিভার্সিটির স্কলার ও শিক্ষক। অস্ট্রেলিয়া যুবলীগ নেতা, মুক্তমঞ্চ সম্পাদক আল নোমান শামীম তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। সুচিন্তিত ও বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন ড. রতনলাল কুন্ডু। 

এছাড়া টোরেন্স ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ বিভাগের শিক্ষক টিটো সোহেল এবং ক্যামডেন রিজিওনের কাউন্সিলর ও সমাজকর্মী এলিজা আজাদ রহমান একজন বিশিষ্ট নারী প্রতিনিধি তাঁদের বক্তব্যে সেমিনারকে আরও সমৃদ্ধ করেন।

আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারি আব্দুল জলিল, নুরুর রহমান খোকন, লেখক ও সমাজকর্মী কায়সার আহমেদ, সেলিমা বেগম, আলমগীর মিঠু এবং আমজাদ হোসেন প্যানেলিস্টদের উদ্দেশে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। বক্তারা তাঁদের প্রশ্নের বিশদ উত্তর দেন।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সিডনির বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রবীণ কমিউনিটি নেতা গামা আব্দুল কাদির। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. গাউসুল আলম সাহাজাদা; মেহেদী হাসান কোচি; আবুল বাশার রিপন; শাহজাহান মিল্টন; দিদার হোসেন; বিলকিস জাহান; শামীম হোসেন শুভ; ইসমত; সুরিদ সুহান হক; আবদুস সালাম; ফয়সাল আজাদ প্রমুখ। 

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটি শুরু হয় বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। পার্লামেন্ট হাউসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় পুরো সেমিনারটি ইংরেজি ভাষায় পরিচালিত হয়। সেমিনারটির সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন হাসান মেহেদী, যিনি তাঁর সাবলীল ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন। 

ছবি কৃতজ্ঞতা : সুহৃদ সোহান হক